এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪

টাংগাইল মধুপুরে হত্যার চেষ্টা

 টাংগাইল প্রতিনিধি :



টাংগাইল মধুপুর পৌরসভাধীন ৭ নং ওয়ার্ডের পুন্ডুরা গ্রামের কাঁঠালতলী মোড়ের রিপন সরকার নামে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও তার অনুসারীরা গত ১৩/০৪/২০২৪ তারিখ রাত ৮ টায় ঐ একই গ্রামের শেওড়াতলী মোড়ের জৈনেক আফসার আলী নামক এক ব্যক্তিকে জমিজমা ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার বাড়িতে অনুপ্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্র রাম-দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করে এবং গুরুতর জখম করে,  এসময় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হসপিটালে প্রেরন করেন। গুরুতর অবস্থায় মধুপুর সরকারি হসপিটালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হসপিটালে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগীর পরিবার  জানায় তাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে এখন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। 

তারা মধুপুর থানায় এ বিষয়ে রিপন গংদের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায় রিপন সরকার এর আগেও ৩ টা হত্যা মামলার আসামি। এলাকাবাসী তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারেনা।


মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

এক জোড়া চোখ



সহস্র বছর আগে

চোখে চোখ রাখা হয়েছিলো।

তারপর আর কারো চোখো 

চোখ রাখা হয়নি কখনো।

সেই যে একটা প্রলেপ পড়েছিলো,

সেই প্রলেপ ভেদ করে 

আজো দেখতে পারিনি কাউকে।

জীবনে বহু পথ হেটে বেরিয়েছি,

দূর থেকে বহু দূরে গিয়েছি,

এক জোড়া চোখ আমি খুজে চলেছি।

পাইনি কোথাও, পাইনা কোথাও, 

পাবো কি কোথাও কখনো?

এমন এক জোড়া চোখ,

যে চোখ আমায় শাসিয়ে যাবে।

যে চোখে চোখ রাখলে বুকের ভিতরটা কেপে উঠবে।

যে চোখের মায়ায় হেসে হেসে চলে যাবো নরকে।


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০২২

চিরকুট

 


"চিরকুট"


ছোট্ট একটা চিরকুট,

এই চিরকুটেই লিখে যাবো শুরু থেকে সমাপ্তি।

একেবারেই সংক্ষিপ্ত হবে সে লেখনী।

কতিপয় কিছু মুহূর্ত ছাড়া বিশেষ কিছু লেখার যায়গা হবেনা সে চিরকুটে।

একেকটা মুহূর্ত ঘিরে বুঝে নিতে হবে একেকটা উপন্যাস।

আর উপন্যাস গুলো লিখবে, যাকে নিয়ে লেখা চিরকুট টা সে।

কারন সে সংক্ষিপ্ত লেখনী অনুভব করার সাধ্য তার ছাড়া আর কারো নেই।

কোন ব্যাখ্যাও দিতে পারবেনা কেউ সেই সংক্ষিপ্ত লেখনীর।


কিন্তু কি অদ্ভুত লাগে ভাবতেই !

চিরকুট টা তো কখনো পৌঁছাবেই না তার হাতে।

লেখনী গুলো কি তাহলে বৃথা যাবে?

উপন্যাস কি কখনো রচিত হবে?

সম্ভব হবেনা মনে হয়,

কারন সে লেখনী বুঝার সাধ্য নেই যে অন্য কারো।

সবকিছু বৃথা, সব।


যদি কখনো পশ্চিমা কোন বাতাসে পৌছায় আমার চিরকুট,

চিনতে বাকি থাকবেনা কার এই লেখা আর কার জন্য লেখা।

হয়তো হলেও হতে পারে  তখন বিবেকের দহন।

দহনে নিঃশ্বসিত প্রাণে হয়তো হলেও হতে পারে আবেগের তাড়ন।

কিন্তু ব্যর্থতা থাকবে সে তাড়না জুড়ে।


কোন রঙিন খামে মোড়ানো থাকবেনা আমার চিরকুট।

কারন খামে মোড়ানো তো একটা বন্দী জীবন।

মুক্ত বাসাতে আমার চিরকুট ভেসে বেড়াবে।

নিবে মুক্ত বাতাসে স্বস্তির শ্বাস। 

আমার হৃদয়ের রক্ষ ক্ষরিয়ে লেখা সে চিরকুট।


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ

রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২

অনিয়ম




 "অনিয়ম"


নিয়মে বাধা সব অনিয়ম,

মনের চাহিদা গুলোও অনিয়ম।

অনিয়মে মিশ্রিত সব রক্তকোষ,

নিয়ম বর্জিত এক অনিয়মিত মানুষ।


আজব বৈশিষ্ট্য, ভিন্ন চলাচল,

নিজের প্রতিচ্ছবি সঙ্গী তার।

একাকীত্বে খুজে বেড়ায় সুখ,

ভালোলাগা তার গভীর আধার।


প্রিয় অনিয়মের সাথে মিলনে,

নিজের সাথে চলে তার যুদ্ধ।

কত বঞ্চনা, কতো বাধা আর,

কত হতাশায় করে বাকরুদ্ধ।


তবুও নিয়তির উল্টো পথে,

চালিয়ে যাওয়া সব অনিয়ম।

জীবন নামের জীবন শুধু,

নয়তো সে পরিপূর্ণ জীবন।


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ 

শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০২২

সুখ কি




 "সুখ কি"


সবাই কি আর মূল্য বুঝে! 

কেউ কেউ তো সুখ খুঁজে।


কিন্তু এই সুখ কি?

সুখের সংজ্ঞা  কি?

বলতে কি কেউ পারো?

এ আমার এক অজানা প্রশ্ন। 

জানা আছে কি কারো?


আমার নেইতো জানা, 

তাই সুখের সন্ধান মানা,

না চিনে কেমনে তারে

করবো পাওয়ার বাহানা!


তাই সুখ চিনবো করে,

জাগতিক এই মহাবিশ্ব ঘুরে, 

আমি জিগাই যারে তারে,

সুখ কারে কয় ভাই? 

ভিন্ন জনের ভিন্ন উত্তর, 

আমি কূল-কিনারা না পাই।


কেউ বলে সুখ- ভালোবাসা;

কেউ বলে টাকা,

সুখ নামে নাইতো কিছু বলা;

এমন লোকেরো পাই দেখা।


আমার জগৎ ঘুরা হলো বৃথা;

পেলাম না- কি সুখের মানে,

যে করেছে সৃষ্টি এই নাম,

হয়তো সেই ভালো জানে।


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ 









মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০২২

জীবনের মোহ




 "জীবনের মোহ"


জীবনের এই খেলা ঘরে;

কেউ জিতে কেউ হারে,

মিছে মায়ায় ব্যাকুল মনা;

কে বুঝাবে তারে? 


জন্ম মনার শুন্যতে আর;

যাবেও শুন্য হাতে,

সঙ্গের সাথী কেউ হবেনা;

যাবেও না কেউ সাথে। 


দমে দমে জেতার লড়াই;

বাঁধে মনা সুখের ঘর,

যেতে হবে সবই ছেড়ে;

আপন হবে সব পর।


ক্ষণিকের এই মোহ মায়ায়;

কতো উত্থান পতন,

সব হারিয়ে নিঃস্ব মনা,

আবার পায় মানিক রতন।


সুখের তরে সকল মনাই;

ভাসায় যে তার ভেলা,

কেউ হয়ে যায় পার আবার;

কারো ডুবে বেলা।


তবুও মনার চাওয়া পাওয়ার;

নেইতো কোন শেষ, 

বেলা শেষে শূন্য মনা;

ফিরবে আপন দেশ। 


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ 

সোমবার, ৩০ মে, ২০২২

একজন পথশিশুর আত্মকথা



"একজন পথশিশুর আত্মকথা"


জন্ম আমার গরীর ঘরে।

যখন একদম ছোট ছিলাম, বুঝার মতো বয়স হয়নি,

জানিনা বাবা মা কতটা বিলাসিতা বা কষ্টে রেখেছে। 

যখন একটু বড় হলাম, একটু একটু বুঝতে শিখলাম, 

তখন থেকেই শুরু হলো আমার ত্যাগী জীবন। 

আমার বয়সী কতো বাচ্চা দেখেছি মায়ের হাত ধরে স্কুলে যেতে।

আমার কখনো মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি।

বাবা দিনমজুর, মা করে পরের বাড়ি কাজ।

কে ধরবে আমার হাত, আর কেই-বা আমায় নিয়ে যাবে স্কুলে!

দুয়েক দিন যদিও পাড়ার অন্য বাচ্চাদের দলে যোগ দিয়ে স্কুলে গিয়েছি,

তবুও আমার শেখা হয়নাই নিজের নামটা লেখা।

বড়লোকদের বাচ্চাদের দেখেছি গাড়িতে চড়ে ঘুরে বেড়ানো, 

আর নানা রকমের খাওয়া-দাওয়া। 

গরীব বলে গাড়ির কাঁচও কখনো হয়নি ছুঁয়ে দেখা,

আর হয়নি ঐ খাবার গুলোর নাম গুলোও জানা।


একটা সময় মা হারালো, বাবাও হারালো।

ভবে হলাম জনম জনমের এতিম। 

স্বার্থপর এই দুনিয়ায় আপন বলতে কেউ রইলোনা।

পাশে এসে কেউ দাড়ালো না সহায় সম্বলহীন এই অসহায়ের। 

কতো দিনের দিনের পর দিন না খেয়ে কাটিয়েছি সে খবরও কেউ রাখেনি। 

চারিদিকে হতাশা যেন ঘিরে রেখেছিল আমাকে।

জীবনের কোন উদ্দেশ্য ছিল না।

চারিদিকে যেন হাহাকার।

ক্ষুধা  আর পানি পিপাসা বুক ফাটিয়ে করে দিতো চৌচির। 

ভাবতাম সৃষ্টিকর্তা কেন এত কষ্ট দেয় আমায়।

খিদের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে কতবার যে চুরি করেছি,

আর কতবার যে ধরা পড়ে মার খেয়েছি সে হিসেব রাখিনি।

এভাবে চলতে চলতেই শৈশব কাটিয়ে কৈশোরে পা রেখেছি।

চারিদিকে হন্য হয়ে খুজেছি কাজ।

কত অবহেলা লাঞ্ছনা সহ্য করে করেছি মানুষের কাছে।

যে বয়সে যে কাজ করা সম্ভব নয়, 

জীবিকার তাগিদে সে কাজ করেছি জীবন বাজি রেখে। 

কোথাও পাইনি আমার উপযুক্ত কাজের মূল্য।

কোথাও অর্ধেক আর কোথাও একেবারেই পাইনি,

এভাবেই কাটিয়ে দিয়েছি পুরো কৈশোর। 


আমার বয়সী ছেলে মেয়েরা কত সুন্দর স্কুল ড্রেস পড়ে আমার সামনে দিয়ে যেতো। 

আমার মনও তখন ছটফট করতো স্কুলে যাওয়ার জন্য। 

মাঝে মাঝে খুব বেশি কষ্ট হলে কাজ ফাঁকি দিয়ে স্কুলের সামনে গিয়ে বসে থাকতাম। 

চোখের কোণে জল জমা হতো স্কুলে যেতে না পারার বেদনায়।

অনেক রাগ হতো সৃষ্টিকর্তার উপর।

চিৎকার করে বলতাম, 

হে খোদা, কেন গরীব করে পাঠালে আমায় এ ধরায়।


এভাবেই চলছে জীবন।

জানিনা আর কতদিন এভাবে চলবে,

দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য জীবন সংগ্রাম। 

তবুও বেঁচে আছি এই আশায়, 

হয়তো কোনদিন ঐ সৃষ্টিকর্তা করে দিবেন তিনবেলা পেটপুরে 

খাওয়ার কোন ব্যাবস্থা।

হ্যা ভাই, আমরা পথ শিশু,

কিন্তু আমরাও মানুষ। 

আপনি আমি একই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট মানুষ। 


বিঃদ্রঃ- আসুন না ভাই এই ঈদে যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী এই পথশিশুদের পাশে দাড়াই।

খুশী গুলো ভাগ করে নেই এই অসহায়দের সাথে। 

ওরাও তো আমাদের মতই রক্ত মাংসের মানুষ। 


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ 

রবিবার, ২৯ মে, ২০২২

জীবন মানেই পরাজয়

 


"জীবন মানেই পরাজয়"


জীবন নিয়ে আজকাল লিখতে ইচ্ছে করেনা।

কারন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ কোনও না কোন ভাবে জীবনের কাছে পরাজিত। 


আপনি কি কখনো এমন কোন মানুষ পেয়েছেন যে তার জীবন নিয়ে পরিপূর্ণ তৃপ্ত? 

আমি কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে পাইনি।


আমার মানুষ সম্পর্কে জানার খুব আগ্রহ। 

আমার জীবনে যত মানুষ দেখেছি, যত মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি তারা কেউ-ই পরিপূর্ণ তৃপ্ত না।

দুয়েক জন যদিও দাবি করে তারা পরিপূর্ণ, 

কিন্তু তাদের জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে তারাও অতৃপ্ত। 

কিছু মানুষ আছে তারাতো মনের সাথে চরম পর্যায়ে সংঘর্ষ করেও মানুষের কাছে নিজেকে পরিপূর্ণ প্রমাণ করার চেষ্টা করে। 

একটু খেয়াল করে দেখুন এমন অসংখ্য মানুষ আছে আপনার আশেপাশেই। 


আসলে মানুষের এই জীবনটাই যেন কেমন!

আমার কাছে খুব অদ্ভুত লাগে!

মাঝে মাঝে জীবন নিয়ে প্রচন্ড ভাবে চিন্তা করি,

কিন্তু চিন্তা করে জীবনের কোন অর্থ পাইনা,

কারন মানুষের পুরো জীবনটাই তো একটা চিন্তার কারখানা। 

আপনি যদি এর প্রমাণ চান তাহলে নিজেকে নিয়েই একটু ভাবুন,

ভাবলেই বুঝতে পারবেন পরিষ্কার ভাবে।

যখন একটা মানুষ বুঝতে শিখে ঠিক তখন থেকেই তার জীবনের পরাজয় শুরু হয়।

বুঝার পর থেকে শিক্ষা নিয়ে চিন্তা, 

শিক্ষার পর কর্ম নিয়ে চিন্তা, 

কর্মের পর পরিবার, 

পরিবারের পর মৃত্যুর দিকে ধাবিত হওয়ার চিন্তা, 

পরকালের চিন্তা,  

সব কিছু যেন এক অসহ্যকর বিষয়। 

আবার এর মাঝেও জীবনে ঘটে যায় অনেক কল্পকাহিনি।

আর এসবের মাঝে মানুষ কি পারে তার জীবনকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিতে।

আমার কাছে মনে হয় পারেনা।

কিছুটা সময়ের জন্য হয়তো মানুষ তৃপ্তি পায়,

কিন্তু সার্বিক ভাবে কেউ-ই পারেনা জীবনকে জয়ী করতে।


দেখবেন মানুষ তার জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে কতো সংগ্রাম করে, কতো বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করে, 

আদৌও কি এর কোন সত্যিকার মূল্য আছে মানুষের জীবনে? 

আমার কাছে নাই। 

শুধু শুধু জীবনকে কষ্ট দেয়া ছাড়া আর কিছুই না এগুলা।


জীবনের সবচেয়ে বড় এবং ভয়ংকর শত্রু কি জানেন?

তা হলো আবেগ,

বেশিভাগ জীবনের পরাজয় এই আবেগের কাছে।

অনেকে বলে তার আবেগ নাই,

আবেগ দিয়ে সে কাজ করেনা,

আবেগের বিরুদ্ধে জোর করে সেই কাজ থেকে দূরে থাকে,

কিন্তু আবেগের বিরুদ্ধে গিয়ে সেই কাজ থেকে দূরে থাকাও তো পরাজয়।

কারন আবেগের বিরুদ্ধে কাজ করেও তো মনে শান্তি পাওয়া যায়না।

পাওয়া যায় কি শান্তি?  

একটু ভেবে দেখুন। 

এই জন্যই আমি বলি জীবন মানে পরাজয়।

ভিন্ন জন্যের ভিন্ন মতাদর্শ থাকতেই পারে।

কিন্তু গভীর ভাবে চিন্তা করলে দেখবেন মনে হবে আসলে পৃথিবীতে না জন্মালেই ভালো হত

না থাকতো দুঃখ, না থাকতো সুখ,

না থাকতো হতাশা আর না থাকতো প্রিয় জিনিস পাওয়ার আকাঙ্খা,

যে আকাঙ্খা নিয়েই চলে যেতে হবে একদিন সব কিছু ছেড়েছুড়ে হারিয়ে।

এরই নাম মানুষের জীবন, 

পরাজিত জীবন। 


এখন ভেবে বলুন আপনারা জীবন কি জয়ী?


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ 






বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২

Latifur Rahman Palash

 



Latifur Rahman Palash is a poet and writer.

He was born on January 1, 1996.

His permanent address is Tangail Madhupur in Bangladesh.

His educational career started from Madhupur Shaheed Smriti High School in Tangail.

From there he passed SSC and HSC, graduated from a national university and completed his postgraduate degree from a private university.

While in primary school, writing became his handiwork.

From a young age, Palash was a man of thoughtful mind.

Always thinking and creating rhythm with everything since his childhood.

And from then on his literary life started.

He has given many popular poems and literature in his life.

রবিবার, ১ মে, ২০২২

বৃষ্টি



 "বৃষ্টি"

ওহে রিমঝিম বৃষ্টি 

তুমি সৃষ্টিকর্তার অপরূপ এক সৃষ্টি। 

ঝিরিঝিরি শব্দে যাও তুমি ঝরে,

মেঘ গুলো জল করো আকাশ শূন্য করে।

প্রকৃতিতে প্রাণের সঞ্চার তোমার ছোয়ায়,

তোমার প্রেমেতে মুগ্ধ তুমি করেছো আমায়।

তোমার রূপ, অপরূপ, মন কেড়ে যায়,

বর্ষাতে জলাধার যেন প্রাণ ফিরে পায়। 

আষাঢ় আর শ্রাবণে তোমার প্রভাব,

ঘুচিয়ে দেয় প্রকৃতির যতো জলের অভাব।


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ

শুকতাঁরা



 "শুকতাঁরা"


দূর আকাশে একটা শুকতাঁরা মিটিমিটি জ্বলে,

কোন সঙ্গী নেই তাঁরাটার। 

একলা আপন মনে ভেসে বেড়ায়।

কিন্তু কিসের যেন শূন্যতা তার মাঝে। 

শুকতাঁরা, সে তো সঙ্গী বিহীন, তাইতো সে শুকতাঁরা।

শূন্যতা তার হৃদয়ে, তাইতো তার পরিপূর্ণ আলো নেই।

শূন্যতা ভরা হৃদয়, তাইতো জ্বলে আর নিভে।

আলো যা ছিলো, হয়তো তা দিয়ে আজ অন্যকোন তাঁরা আলোকিত।

তবুও তাঁরাটা নিশ্চুপ, কোন অভিযোগ নেই কারো প্রতি।

নিরবে হয়তো অশ্রুজলে সিক্ত হয় তাঁরাটি প্রতিনিয়ত।

আবার হয়তো বা একেবারে নিভে যাওয়ার প্রতীক্ষায় জ্বলজ্বল করে।

মাঝে মাঝে মেঘের আড়ালে হারিয়েও যায়,

স্বল্প আলো তাই মেঘ ভেদ করে কারো নজরেও আসতে পারেনা শুকতাঁরাটা।

খুব অসহায় লাগে তাঁরাটা কে।

হয়তো একেবারে জ্বলে উঠুক,

নয়তো একেবারে নিভে যাক।

কেন তার থাকতে হবে এ দুইয়ের মাঝামাঝি।

কোন আলোর অপেক্ষায় হয়তো তাঁরাটা এখনো রয়েছে।

কিন্তু আলো তো কেউ দিবেনা,

সবাই তো নিজেকে আলোকিত করতেই ব্যস্ত।

তাইতো সবাই আলাদা করে রেখেছে শুকতাঁরার অস্তিত্ব।

তাদের দলের বাইরে শুকতাঁরার স্থান।

যদি একটু আলো দিয়ে আলোকিত করতে হয় সেই ভয়ে

দূরত্ব বজায় রেখে চলে বাকি তাঁরারা।

তবুও কোন অভিযোগ নেই তার,

দূরে থেকেই তৃপ্ত সে।

ভালো থাকুক আর আলোকিত থাকুক না হয় তার বিলিয়ে দেওয়া আলোয় বাকি তাঁরা গুলো। 

আর নিভি নিভি আলোয় না হয় দূরে থেকেই দেখে যাবে অন্যদের উজ্জ্বল আলো। 

শূন্যতা গুলো না হয় নিজের কাছেই লুকিয়ে রাখুক আজীবন।

কষ্টের কোন ভাগিদার নাইবা করলো চলার পথে।

মেঘের আড়ালে হারিয়ে গেলে নাইবা হলো খোজার কোন সঙ্গী।

নিভি নিভি আলো রাঙিয়ে দেওয়ার নাইবা হলো কোন উজ্জ্বল আলো।

অশ্রুজল মুছে দেওয়ার নাই বা হলো কোন প্রতিবিম্ব। 

শূন্যতা ভরা হৃদয় নিয়ে তবুও বেঁচে থাকুক শুকতাঁরা।

সন্ধার আকাশে এ প্রান্তে আমিই না হয় হলাম তার সঙ্গী।

একই ধারায় বয়ে চলা দুটি জীবন প্রবাহের মিলের সঙ্গী।

দুজন দুজনার সঙ্গী।


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ 

সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২

খোঁজ নিয়ো বেলা শেষে



 "খোঁজ নিয়ো বেলা শেষে"


খোঁজ নিয়ো বেলা শেষে,

আমার একটুখানি ভালোবেসে।

পড়ে নিয়ো আমার শেষের কবিতা,

ইচ্ছে হলে যত্নে রেখো আমার শেষ ছবিটা। 

তোমার হাজারো নতুন স্বপ্নের ভিড়ে,

পুরানো স্মৃতি গুলো ঠাই দিয়ো হৃদয়ের নীড়ে।

যে ডাকনাম তোমায় আমি দিয়েছিলাম,

উড়িয়ে দিয়োনা তা, দিয়ে নীল খাম। 

ভালোবেসে চোখাচোখির প্রথম স্মৃতিকথা,

হৃদয়ে রেখো তুমি বিনিসুতায় গাথা।

ভালোবাসার সুখের সেই হারানো দিন,

মনে রেখে কমিয়ে নিয়ো হৃদয়ের ঋণ।

তোমাকে বলা আমার ঔ শেষ কথা,

মনে হলে পেয়োনা হৃদয়ে ব্যথা। 

সুখের স্বপ্ন সত্যি করে তুমি হও সুখী,

আমাকে বিহীন তুমি হয়োনা দুঃখী। 


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ 

⏱️ ২৬-০৪২০১৮

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২

প্রিয়ংবদা



 "প্রিয়ংবদা"


আমায় ভুলে যেয়োনা প্রিয়ংবদা,

মনে রেখো স্মৃতিগুচ্ছ সদা সর্বদা।

আমি তোমার প্রেম পিপাসী,

সেই প্রেমেতেই আজ গলায় ফাসি। 

ব্যাকুলতায় অস্থির ভাঙাচোরা মন,

ভাবনা জুড়ো তোমার ছবি ভাসে সর্বক্ষণ।

যে প্রেমেতে অন্ধ আমি, তুমিও ছিলে অন্ধ,

বিবেকের দরজা হঠাৎ কেন তোমার বন্ধ?

আছো কি সেই আগের মতন, যেমন আমার ছিলে?

থাকোই যদি তেমন তুমি, তবে কেন দুঃখ দিলে?

দুঃখ দিয়ে নেই কিন্তু তুমিও খুব সুখে,

অগোচরে কাঁদছো তুমি আমার বিহীন ধুকে।

অভিমানে বাধা আছো বুজতে নেই বাকি,

কষ্ট হলেও খোলো তোমার অন্তরের ঔ আখি। 

মনের টানে দাও সাড়া, মন যাহা চায়,

স্রোতের টানে নিজেকে ভাসাও, পেয়ে যাবে তায়।


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ 

বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২২

প্রেরণা

 


"প্রেরণা"


আবার কেন কড়া নাড়ো আমার দুয়ারে?

নিজেকে তো সঁপে দিয়েছি অনেক আগেই তোমারে।

আমার অস্তিত্ব জুড়ে প্রেরণা তোমার বাস,

শিরা উপশিরায় রয়েছো তুমি, তোমাতেই আমার শ্বাস।

দৃষ্টিকোণে তোমার ছবি ভেসে চলে অবিচল,

তোমাতে ছিলাম, তোমাতে আছি, তোমাতে রবো অটল।

চাওয়া পাওয়ার পর্ব গুলো অনেক আগেই শেষ,

আমায় বিহীন প্রেরণা তুমি রয়েছই তো বেশ।

তবুও কেন অনুভবে কড়া নেড়ে যাও?

সুদে আসলে চুকে গেছে সব, আরো কিছু কি চাও?

নাই যে কিছু দেয়ার বাকি, শূন্য আমি আজ,

বদলে গেছে পৃথিবী আমার, বদলেছে তার সাজ।

প্রাণের মায়া নেইতো আমার তোমায় দেবো বলে,

অনেক দূরে যাবো আমি প্রেরণা তোমায় ফেলে।

আমার খোঁজ নিতে তোমার যদি চায় গো মনে,

স্মৃতির পাতা খুলে দেখো ছিলো যা আমার সনে।

অনুভূতি দুমড়ে মুচড়ে কাঁদাবে তোমায় তখন,

আমার বিহীন শূন্যতা গুলো পড়বে মনে যখন।

এখন তো বেশ ভালোই আছো, আমায় বিহীন একা,

পাবে কি কখনো মরীচিকা স্বপ্ন গুলো সত্যি হবার দেখা?


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ 

সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২

অপূর্ণতা



"অপূর্ণতা"

ভুলিতে চাহিয়া তারে বেশি মনে পরে,
রাতের গভীরে তাই দু নয়ন ঝরে।
আনাচে কানাচে শুধু স্মৃতির হাতছানি,
স্বপ্ন ভাঙার কষ্ট কি আমি ভালোই জানি।
যার হারায় সে বুঝে হারানোর ব্যথা,
সবাই তো কথা দিয়ে রাখেনা কথা।
কেনো এতো ছলাকলা বিধাতাই জানে,
দেখিয়ে স্বপ্ন, ভেঙে দেওয়ার নেই তো কোন মানে।
দুনিয়ার এই খেলা ঘরে চলে নানান খেলা,
দুঃখের ঢেউয়ে ডুবে যায় কারো কারো ভেলা।
স্মৃতির পাতায় কালো খাতায় অপূর্ণতা লেখা,
জীবন তরী থামবে কবে যায় কিরে আর দেখা।

বি.দ্রঃ দেখা যাক বা না যাক তরী একদিন থেমে অবশ্যই যাবে,
হয়তো ভুলেও যাবো সেদিন তারে।
কিন্তু স্মৃতি গুলো অম্লান থাকবে সৃষ্টিকর্তার ডাইরিতে

✍️ লতিফুর রহমান পলাশ
রচনাকাল ১২ই এপ্রিল ২০১৮

রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০২২

ভালোবাসা অমর




"ভালোবাসা অমর"


মৃত্যু হয় ব্যর্থ মনের, 

তবুও মৃত মনে বেঁচে থাকে ভালোবাসা আজীবন।

 

বদলে যায় মানুষ, বদলে যায় দুনিয়া, 

কিন্তু বদলায় না ভালোবাসা। 

শুধু প্রকাশ ঘটেনা সময়ের বিবর্তনে।


বুকের ভিতর ললাটে আগুনে সকল ইচ্ছে গুলো পুড়তে থাকে,

কিন্তু পূরণ করা যায়না সামাজিক নিয়মের বেড়াজালে।


ভালোবাসা বড়োই অদ্ভুত!

ক্রোধের তাড়নায় থেমে যায় ক্ষণিকের জন্য, কিন্তু নিঃশেষ হয়ে যায়না।

মাঝে মাঝে স্মৃতির স্বরণে বুকের ভেতর বিষাক্ত তীরের মতো আঘাত হানে।

ক্ষত বিক্ষত হয়ে যায় হৃদয়ের আঙিনা।

হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়।

কেউ দেখেনা হৃদয়ের এই রক্ত ক্ষরণ, 

কেউ দেখবেও না কোনদিন।

শুধু যাতনা সয়ে যায় ভুক্তভোগী। 

তবু্ও ঐ ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়ে বেঁচে থাকে ভালোবাসা। 


ভালোবাসা অমর,

মৃত্যু নেই ভালোবাসার।

শুধু মিলন নেই ভালোবাসার দুই প্রান্তের।  

ভালোবাসায় সুখ নেই, ভালোবাসায় শান্তি নেই। 

তবুও মানুষ না বুঝে ভালোবাসে একটু সুখের আশায়।

কই, কেউ তো দেখলাম না সুখী হতে!

শুধু যাতনা আর যাতনা। 

মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মানুষ এ যাতনা নিয়েই। 

তবুও ভালোবাসাকে দূর করতে পারেনা হৃদয় থেকে।

ভালোবাসা এমন এক আঠা যা একবার লাগলে আর ছাড়ানোর উপায় নেই। 

তুমি বাঁচো বা মরো, তোমার থেকে ভালোবাসা কে মৃত্যু দিতে পারবেনা তুমি।


মানুষ অসহায় এই ভালোবাসার অমরত্বের কাছে।

তবে জালিম, বেঈমানদের ক্ষেত্রে ভিন্ন। 


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ

শনিবার, ৫ মার্চ, ২০২২

বাস্তবতা




 "বাস্তবতা"


এই জগতে হায়

যে যাহারে চায়,

হয়না সে-তো তার

কে হয়ে যার কার!

কি যে আজব খেলা

কে বুঝে তার লীলা,

বুকে জমে ব্যথা

চোখের জলের কথা,

বুঝেনা-তো কেউ

মনের দুঃখের ঢেউ,

দিন ফুরিয়ে যায়

একলা নিরালায়,

কষ্ট নিয়ে বুকে

অধম মরে ধুঁকে ধুঁকে,

খবর কে তার রাখে

সময়ের ফাঁকে,

ব্যস্ত সবাই রোজ

করে আপন সুখের খোঁজ,

নেইতো সময় কারো

সুখ চায় আরো,

পুরনো প্রেম যত

সুখের কাছে নত,

নেইতো প্রেমের দাম

সবাই খুঁজে নাম,

দৌড়ে নামের পিছে

যখন বুঝবে সব মিছে,

বেলা শেষে তখন

পরবে মনে যখন,

আসবে চোখে জল

হারাবে মনের বল,

তখন একা মনে হবে

পাশে কেউনা আপন রবে,

করবে তখন আফসোস 

আসবে মনে বুঝ,

হবেনা তখন লাভ 

মাফ হবেনা পাপ,

সময় ফুরিয়ে যাবে

পাপের শাস্তি পাবে,

হৃদয় ক্ষরণ হবে

আমৃত্যু একলা পরে রবে।


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ

রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

মন সংকোচ




"মন সংকোচ"


কতখানি বিভোর এ মন, 

কে রাখে তার খবর!

বুকের মাঝে যে গোরস্থান, 

সেথা খুঁড়েছি শত কবর।


সে গোরস্তানে শত স্বপ্ন আমার 

করবো আমি দাফন,

দুঃখ আমার স্বপ্ন গুলোর 

হবে সাদা কাফন।


জীবন যুদ্ধে পরাজিত আমি 

হয়েছি শত শতবার,

দুঃখের অনলে পুড়ে এ মন 

হয়েছে ছারখার।


স্বপ্ন পূরণ করবো বলে 

গিয়েছি সবার দ্বারে,

সবাই কি আর কথা দিয়ে 

কথা রাখতে পারে!


জীবন বড় কঠিন জিনিস 

বুঝিনি তা আগে,

বুঝেও এখন হয়না যে লাভ, 

কষ্ট বুকে লাগে।


কতো কতো বার ঠকেছি আমি 

মানুষ বিশ্বাস করে,

তাইতো আজ বিশ্বাস আমার 

গিয়েছে সব মরে।


ভালোবাসতে এখন আমার 

লাগে যে বড় ভয়,

পোড়া মনটায় আবার যদি

ব্যথা পেতে হয়!


একা আছি, ভালো আছি, 

নিঃসঙ্গ মানব আমি,

নিজেই আজ নিজের কাছে 

অনেক অনেক দামি।


স্বপ্ন নেই, সুখ নেই, 

নেই কোন চাওয়া পাওয়া,

দুনিয়াবি ঝামেলা আর 

দেয়না আমায় ধাওয়া। 


নাম মাত্র মানুষ আমি, 

আসলে এক জড়,

বড় বড় দুঃখও আজ

হয়না মনে বড়।


যতদিন থাকবো বেঁচে

সুখের এই ধরায়,

ভুল করেও হাঁটব না আর

প্রেম বাজারের পাড়ায়। 


✍️ লতিফুর রহমান পলাশ

রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ধরনীর মায়া

 



"ধরণীর মায়া"


ওহে ধরণী,

তোমাতে মত্ত আমি।

তোমার রূপের নেশায় মাতাল আজ আমার আকাশ বাতাস।

তোমাতে মজিয়া আজ বিভোর আমার নয়নমণি।

থাকবে কি চিরকাল তোমার এই রূপ,

যে রূপের নেশায় আজ মাতাল আমি? 

ভাবিয়া মনের দুয়ার তুমি রাখিও খোলা,

কার মনে কি আছে যায়না তো বলা।

প্রকৃতি আজ তোমার বশে,

কি করবে যদি কখনো ঝড় আসে?

ভেবে দেখরে বোকা মন,

থাকবেনা কিছু করার তখন।

যদি চাও মুক্তি, করো সত্যের ভক্তি,

কাটবে নেশা যদি থাকে সেই ভক্তির শক্তি।

যে পারে সেইতো করে তোমায় নিয়ে খেলা,

স্রোতে স্রোতে ভেসে চলে কর্মফলের ভেলা।

সাজিয়েছো নানান রঙ্গে, আজব তোমার লীলা,

তোমার লীলা তুমিই বুঝো, ডুবে যায় বেলা।


🖋️ লতিফুর রহমান পলাশ

শনিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

বিদায় বেলার শেষ মিনতি

 



"বিদায় বেলার শেষ মিনতি"


মেনে নিয়েছি আমি সকল নিরবতা,

বলবোনা কাউকে আমার কতো ব্যথা।

ব্যথা আছে যত লুকায়িত আমার মনে,

ব্যথিত হবো আমি একা গোপনে।

একাকীত্ব নিয়েছি আমি সঙ্গী করে,

শুধু চাইবো প্রিয়া তোমায় মরনের পরে।

এ জনমে প্রিয়া তুমি দেখা না দিয়ো,

পড়ে যদি মনে আমায় দূর থেকে খোঁজ নিয়ো।

সামনে যদি আসো কখনো আমার খোঁজ নিতে,

সেদিন কিন্তু নিজেকে আমি পারবোনা সামাল দিতে।

অশ্রু আমার মানবে না সেদিন বাধা শতশত,

থাকো তাই প্রিয়া তুমি পার দূরে যত।

আমি থাকি আমার মতো নিয়ে সব স্মৃতি,

স্মৃতির সাথেই মেনে নিবো আমার শেষ ইতি।

শেষ বিদায়ে যদি তোমার দেখতে মন চায়,

পাশে এসে একটু বইসো একলা নিরালায়।

আপন মনে এই বদনে দিয়ো একটু দৃষ্টি,

ঝরিয়ো না দুই নয়নে সেদিন আষাঢ়ের বৃষ্টি। 

ঐ নয়নে ঝরে যদি এক ফোঁটা জল,

মরার পরেও হবে আমার আত্মার কতল।

বেঁচে থাকতে পেলাম না হায় তোমার কায়া মায়া,

প্রখর রোদে কবর মাঝে দিয়ো একটু ছায়া। 

বিদায় বেলার এটাই আমার শেষ মিনতি,

সুখে থাকতে ভুলে যেয়ো আমার সব স্মৃতি।


🖋️  লতিফুর রহমান পলাশ